• বুধবার ২২শে মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ ৮ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ৩০ শতাংশ কমিশনের লোভে মাইন্ড এইডে পাঠান ডা. মামুন

    অনলাইন ডেস্ক | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    ৩০ শতাংশ কমিশনের লোভে মাইন্ড এইডে পাঠান ডা. মামুন

    চিকিৎসার নামে নির্যাতনে নিহত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনকে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিক্টেড হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে তাঁর অধীনেই আনিসুলের চিকিৎসা চলছিল। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হবে না জানিয়ে আনিসুলকে তিনি ওই হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

    রেজিস্ট্রার হিসেবে ২৪ ঘণ্টা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হয়ে কাজ করার কথা থাকলেও মামুন লাইসেন্সবিহীন মাইন্ড এইডসহ তিনটি হাসপাতালে পার্টটাইম কাজ করেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে রোগী ভাগানোর বিনিময়ে ডা. মামুন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন। এই কমিশনের লোভেই তিনি এএসপি আনিসুলকে ওই হাসপাতালে পাঠান। নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হলে দায় এড়াতে তিনিই অ্যাম্বুল্যান্স পাঠান।

    মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিক্টেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ও পরিচালক আরিফ মাহমুদ জয়সহ কয়েকজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ আদাবর এলাকা থেকে ডা. মামুনকে গ্রেপ্তার করে। গতকালই ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

    এদিকে গতকাল মামলার দুই আসামি হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান ও ওয়ার্ডবয় তানিফ মোল্লা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ নিয়ে মামলায় ছয় আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। রিমান্ডে আছেন ছয়জন। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে উঠে আসে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম। আজ (গতকাল) সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পথে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা পুলিশ। এই ডাক্তার মামুনই প্রথম ব্যক্তি, যাঁর অধীনে সিনিয়র এএসপি শিপন চিকিৎসার জন্য মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

    কিন্তু তিনি চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে শিপনকে বসিয়ে রাখেন। পরে একটা বেডে তাঁকে শুইয়ে দিয়ে ইনজেকশন পুশ করেন। এএসপি শিপন ঘুমিয়ে যাওয়ার পর মামুন ফোন করেন মাইন্ড এইড হাসপাতালে। তাঁর এখানে চিকিৎসা হবে না মর্মে ওই মাইন্ড হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেন।’

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি হারুন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও মামুন মূলত বেসরকারি তিনটি হাসপাতালে পার্টটাইম জব করেন। তা হলো টাঙ্গাইলের ঢাকা ক্লিনিক, এইড ওয়েল ও আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতাল। লাইসেন্সবিহীন একটি হাসপাতালে তিনি কিভাবে চিকিৎসা করান জানতে চাইলে ডা. মামুন পুলিশকে জানান, অন্যরা যেভাবে করেন তিনিও সেভাবে করেন। আমরা জেনেছি, মাইন্ড এইড হাসপাতালে রোগী পাঠালে ডা. মামুন ৩০ শতাংশ কমিশন পান।’

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক মোল্লা গতকাল আসামি ডা. মামুনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    প্রসঙ্গত, মানসিক সমস্যাগ্রস্ত সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপনকে গত ৯ নভেম্বর মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিক্টেড হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার টর্চার সেলে মারধরে তাঁর মৃত্যু হয়। আনিসুলের বাবা আদাবর থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করলে গতকাল পর্যন্ত পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এখনো পলাতক রয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিন।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2023 shikkhasangbad24.com all right reserved