• মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    হারিয়ে যেতে বসেছে খেুজুর গাছ, ব্যবহার হচ্ছে ভাটায় জ্বালানী হিসেবে

    অনলাইন ডেস্ক | ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫:১৮ অপরাহ্ণ

    হারিয়ে যেতে বসেছে খেুজুর গাছ, ব্যবহার হচ্ছে ভাটায় জ্বালানী হিসেবে

    ঋতুবৈচিত্র্যর ধারায় প্রকৃতিতে ফোঁটায় ফোঁটায় শিশির বিন্দু গায়ে জড়িয়ে এসেছে শীত। শীতের শুরুতেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা। শীত মানেই যেন খেজুর রস। শীতের সকাল আর খেজুরের রস দু’য়ে মিলে ছিল একাকার। কালের বির্বতনে এখন আর সে চিত্র চোখে পড়ে না।

    মানুষ নিজের প্রয়োজনে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ও ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে আশপাশের খেজুর গাছসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলছে আবার কেউ কেউ কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিদেশি গাছের বাগান করছেন। এতে শীতের সকালে খেজুরের রসের স্বাদ আস্বাদন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের মানুষ।

    তবুও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার এলাকায় গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য।বিগত কয়েক বছর পূর্বেও এই অঞ্চলের কিছু মানুষ শীতকাল এলে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিকেল হলেই ধারালো ছেনি বা দা কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে এই গাছ থেকে ওই গাছের মাথায় রাজত্ব করে বেড়াত। গাছি তার মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পের মতো করে খেজুর গাছের গলায় দা চালিয়ে দিতেন এবং ঘটি বেঁধে চলে আসতেন।
    পরের দিন সকাল বেলা ঘটিভর্তি রস নিয়ে নিচে নেমে আসতেন এবং এই রস বিক্রি করে সংসারের যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতেন। কেউ কেউ কাঁচা রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করে বিক্রি করতেন। এভাবে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে খেজুর রসের একটি চিরাচরিত সম্পর্ক স্থাপন হয়। তখন কৃষকের ঘরে উঠত নতুন ধান। খেজুরের রস আর নতুন ধান গ্রাম-বাংলার মানুষের মধ্যে নবান্নের উৎসবে মাতোয়ারা করে রাখত। নতুন ধানের পিঠা আর খেজুরের রস শীতের সকালকে করে রাখত মধুময়। ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েসের ধুম চলত।

    সময় বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের জীবন প্রণালি। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রচলিত সংস্কৃতি।খেজুর গাছ কমে যাওয়া এ অঞ্চলে এখন খেজুরের রস ও গুড় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। মন চাইলেও এখন আর কাঁচা রস পাওয়া সম্ভব হয় না। টাটকা রস পাওয়া বড়ই মুশকিল ব্যাপার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময় হাজার হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন গাছিরা। এখন কয়েক গ্রাম ঘুরে দু’একটি খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার হয়ে পড়েছে। যদিও দু’একটি গাছের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে তা থেকে রস সংগ্রহ করার সুযোগ হচ্ছে না। দক্ষ গাছিরা তাদের পেশা পরিবর্তন করায় খেজুর গাছ থাকলেও রস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে খেজুরের রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ।শহরের মানুষরা তো তার ছোঁয়াই পায় না। এখন মাঝে মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।

    সেখানে হয়তো এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাংলার ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পিঠার নাম জানতে পারে ও আকার আকৃতি দেখতে পারে। গুটি কয়েক ছাড়া কেউ ক্রয় করেও খেতে পারে না। বিভিন্ন স্টল সাজিয়ে রাখা হয় পিঠা আর দর্শনার্থীরা দেখে দেখে মনে মনে স্বাদ-আস্বাদন করে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলায় গ্রাম্যঞ্চাল বেশি থাকায় তালা সদর, জালালপুর, ইসলামকাটি, তেতুলিয়া, খলিলনগর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, অতীতে উপজেলার সর্বত্র বহু খেজুর গাছ ছিল। ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে খেজুর গাছ কেটে অনেকটাই সাবাড় হয়ে গেলেও যা আছে, ১২ ইউনিয়ন মানুষের খুশি করার পক্ষে কম। ইটভাটায় জ্বালনি হিসাবে অনেক গাছ বিক্রি করা হয়েছে। রস মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ ভাড়া হয় ২/৩ শ’ টাকায়। মৌসুমের শেষে অনেকেই গাছা বিক্রি করে দেন। মূলত ইট ভাটার জ্বালানির জন্য খেজুর গাছের চাহিদা রয়েছে। যদিও দাম অন্য গাছের তুলনায় কম।

    খেজুর গাছের মালিকরা জানান, শীত দ্রুত এসে পড়ায় রস সংগ্রহকারীদের চাহিদা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে একটি খেজুর গাছ থেকে ২০-৩০ কেজি রস পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহে একদিন গাছ কাটা হলে তিন দিন রস পাওয়া যাচ্ছে। গাছিরা জানান, আমাদের উপজেলাতে একসময় অনেক খেজুর গাছ ছিলো কিন্তু কালের বির্বতনে তা হারিয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে ৫ বছর আগে আমাদের গাছ কাটার জন্য আমার মত অনেক লোক পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলো কিন্তু এখন তেমন খেজুর গাছ না থাকায় এই কাজ কেও করতে চাই না।

    রসপায়ীরা জানান, শীতের সকালে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে খেজুর রস খাওয়ার মজাই আলাদা। আরও মজা লাগে খেজুরের রস দিয়ে গুড়/পাটালি দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের পিঠা বানিয়ে খাওয়া। সকাল ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস রস খেলে শরীর অনেকটা সতেজ থাকে। সকল রসপায়ী ও স্থানীয় ব্যাক্তিদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য খেজুর গাছ কেটে ইটের ভাটায় বিক্রয় করছে। যদি এই অসাধু ব্যাবসায়ীদের এখনি আটকানো না যায় তাহলে ভবিষৎতে তালা উপজেলা সহ প্রায় সকল উপজেলায় খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়া দুষ্কার হয়ে পরবে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:১৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved