• রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    মর্গের লাশে লালসাসহ ২০২০ এর ভয়ঙ্কর ৪ ‘ধর্ষণ’

    অনলাইন ডেস্ক | ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

    মর্গের লাশে লালসাসহ ২০২০ এর ভয়ঙ্কর ৪ ‘ধর্ষণ’

    মানব সভ্যতার কতোটা অবনতি ও নোংরামিতে পতিত হলে হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের লাশে যৌন লালসা নিবারণ করা সম্ভব! কতোটা নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করলে খোদ ফুটপাথ ধরে একা একটি তরুণী হাঁটলে তাকে ঝোপে নিয়ে মুখ চেপে ধর্ষণ করা সম্ভব! কতোটা অরাজকতা বিরাজ করলে একটি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয় নববধূ! এমনকি কতোটা নৃশংস হলে ঘরে স্বামীকে বেধে মধ্যবয়সী গৃহবধূকে গণধর্ষণের চেষ্টা করা সম্ভব। এমনই সব ভয়ঙ্কর ধর্ষণ বা এ সংক্রান্তে মামলার ঘটনা বুকে নিয়ে ২০২০ সাল প্রায় শেষলগ্নে।

    ভয়ঙ্কর ৪ ধর্ষণের ঘটনা:
    মর্গে রাখা মৃত নারীদের লাশ নিয়মিত ধর্ষণ:
    গত ১৯ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ থেকে মুন্না ভগত (২০) এক ডোম সহকারীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এই মুন্না প্রায় ৩ বছর যাবত মর্গে আসা মৃত তরুণীদের লাশে যৌন লালসা নিবারণ করতো। জঘন্যতম এমন অপরাধ ধরা পরায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সে কারাগারে বন্দি রয়েছে।
    সিআইডি বলেছে, ওই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মর্গে একে একে ৭ জন নারীর শরীরে একই ধরনের শুক্রাণুর প্রমাণ পাওয়া অনুসন্ধানে নেমে মুন্না ভগতের এই ভয়ঙ্কর কাহিনী বের হয়ে আসে। মৃত নারীদের মধ্যে যাদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট ছিল ডোম মুন্না।
    জানা গেছে, মৃত নারীদের হাসপাতালের লাশকাটা ঘরে নিয়ে আসার পর নিয়মিত ধর্ষণ করতেন ডোম। ফলে মৃত নারীর ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। মৃত নারীর শরীর থেকে ডোমের শুক্রাণুর প্রমাণ মিলেছে।

    ২০১৫ সালে এক নারীর আত্মহত্যা জনিত মৃত্যুর ঘটনার হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাতে বলা হয়, অপমৃত্যুর মৃত্যুর ঘটনায় নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা। এরপর থেকেই আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব।
    ওই নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানা এলাকায় অপমৃত্যু হওয়া ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ তরুণীর মৃতদেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৭ টি লাশেই একই ব্যক্তির শুক্রাণু। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সিআইডি। ভয়ঙ্কর এক সিরিয়াল কিলারের খোঁজ করতে গিয়ে বের হয়ে আসে জঘন্য রহস্য।
    সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, জঘন্যতম ও খুবই বিব্রতকর বিষয় এটি। বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করতো মুন্না।

    টোকাই মজনুর ধর্ষণের শিকার ঢাবির ছাত্রী:
    বছরের শুরুর দিকে গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী দাওয়াতে ঢাবি’র ক্ষণিকা বাসে করে তার বান্ধবীর বাসা শেওড়ার উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা ৭টায় শেওড়া বাস স্ট্যান্ডে না নেমে কুর্মিটোলা বাস স্ট্যান্ডে নেমে যান তিনি। ওইসময় ছাত্রী বুঝতে পারেন, তিনি ভুল করে নেমে পড়েছেন। ভুল বুঝতে পেরে তিনি ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে থাকেন।
    এরপর মজনু পেছন থেকে হঠাৎ তাকে পাশের কাটা ঝোপের ভেতরে ফেলে দেন। তখন ওই ছাত্রী চিৎকার করতে থাকলে মজনু গলা চেপে ধরেন এবং মুখে, বুকে ও পেটে কিল ঘুষি মারেন। এরপর ওই ছাত্রী নিস্তেজ হয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন মজনু তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পরে মজনু ছাত্রীর ব্যাগ থেকে একটি প্যান্ট বের করে তাকে পরিয়ে দেন। ছাত্রীর জ্ঞান ফেরার পরে দেখেন তার পরনে যে প্যান্ট ছিল সেটা আর নেই।

    এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় টোকাই মজনুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় গত ১৯ নভেম্বর আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    এমসি কলেজ হোস্টেলে নববধূকে ধর্ষণ:
    গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় মুরারি চাঁদ কলেজ (এমসি) স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে কয়েকজন দলবেঁধে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরদিন তার স্বামী শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার ৮ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়া গ্রেপ্তার ৮ আসামির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মামলার আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

    সেই ৮ আসামি হলো, প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া, আইনুদ্দিন, মাহফুজুর রহমান ও তারিকুল ইসলাম তারেক।

    স্বামীকে বেঁধে মধ্য বয়সী গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা:
    স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন এক নারী। ১০ বছর পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্বামী তার কাছে এলে দেলোয়ার বাহিনীর ক্যাডাররা দরজা ভেঙে ওই নারীর ঘরে ঢোকে। এরপর তারা ওই নারীর স্বামীকে পাশের রুমে বেঁধে রেখে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর থেকে ওই নারী এলাকা ছাড়া হয়ে পালিয়ে থাকলেও তাকে মোবাইলফোনে নানা ধরনের হুমকি ও কু প্রস্তাব দিতো স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনী। তিনি ফিরে না আসায় গত ৪ অক্টোবর সে ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ও র‍্যাব তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে।

    এ মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি মোট ৯ জন। এদের মধ্যে ৪ জনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অনুসন্ধানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উদঘাটন করতে পারে যে, দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ওই নারীকে এর আগে নৌকায় এবং বিভিন্ন স্থানে একাধিকার ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছিলো।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved