• সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান

    ডক্টর আবু জাফর সিদ্দিকী | ০২ আগস্ট ২০২০ | ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

    বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান

    করোনার পাশাপাশি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশ। গত এপ্রিলে আঘাত হানে ভয়ংকর ঘূর্ণীঝড় আমফান। আগাম সর্ততামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে সময়মতো আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণহানি কম হলেও ফসলসহ বেশকিছু বাঁধ, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ।

    ইতিমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দেশের প্রায় সব নদনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তা বেড়ে চলেছে।

    একদিকে করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া অর্থনীতি, অন্যদিকে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এহেন বাস্তবতায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, ত্রাণ ও পুর্নবাসনের দায়িত্ব নিয়োজিত সব কর্মকর্তা কর্মচারিসহ স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আহবান জানিয়েছেন।

    এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একের পর এক এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সরকারিদলসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সামর্থ্যবানদের বন্যাদুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিৎ।
    বন্যায় ইতোমধ্যে ব্যাপক অঞ্চল প্লাবিত হয়ে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেক মানুষ পানিতে ভাসছে। অনেকে আশ্রয় কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের যাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, এজন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

    বলার অপেক্ষা রাখে না, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতির আসল চিত্র ফুটে উঠে। ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নদীভাঙন তীব্র হয়ে উঠে। এদিকটি বিবেচনা করে এসব ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় অবিলম্বে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। বন্যায় যেসব মানুষের ফসল তলিয়ে গেছে এবং যারা ফলাতে পারেনি, তারা যাতে তাদের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে পারে, এজন্য ইমিডিয়েট সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। তারা যাতে পুনরায় ফসল উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে, এ ব্যাপারে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। নদীভাঙ্গণ রোধে স্থায়ী কার্যকর উদ্যোগগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে। বিশেষত উজানের ঢল ও বন্যার পানি সহজে নেমে যাওয়ার জন্য নদ-নদী ও খালখনন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মহীন মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও পুর্নবাসন সহায়তা যেন কোনো জনপ্রতিনিধি বা দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে চলে না যায়, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। সেই সাথে চলমান করোনা ভাইরাস মহামারীর কথা ভুলে গেলে চলবে না। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সরকারের পাশাপাশি দেশের সব মানুষকে সামর্থ্য অনুসারে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো।

    দুযোর্গ মোকাবেলায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্য, দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে বর্হিবিশ্বে সুখ্যাতি রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, করোনা মহামারীর কারণে তা ক্ষতির সম্মুখীন না হলে বন্যা মোকাবেলা কঠিন কিছু ছিল না।

    প্রতিবার সরকারি সাহায্য ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে বহু লোক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা এগিয়ে যান বন্যা দুর্গতদের সাহায্য-সহযোগিতায়। এবারে তার পরিমাণ খুব কম। কিন্তু এ সময় সবাই সহযোগিতার হাত না বাড়ালে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে। তাই জরুরিভাবে দরকার বন্যার্তদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। তাহলে এই দুঃসময় অতিক্রম করা সহজ হবে।

    লেখক: লেখক ও গবেষক, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চাইল্ড কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা-ঢাকা।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved