• শনিবার ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ফাঁড়ির ভেতরে তিনিই ছিলেন এসি তিনিই ওসি

    অনলাইন ডেস্ক | ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

    ফাঁড়ির ভেতরে তিনিই ছিলেন এসি তিনিই ওসি

    সিলেট নগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া। দেখতে ঠিক সিনেমার নায়কের মতো। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত নাটকে নায়কের অভিনয় করতেন তিনি।

    ইউটিউব চ্যানেলে সিলেটি ভাষায় নাটক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে তিনি পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন। ‘গেইমওভার’ ও ‘গরীবের দেব’ নামে নাটক করে পরিচিতিও পেয়েছেন বেশ।

    কিন্তু পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাতারাতি নায়ক থেকে ভিলেন (খলনায়ক) বনে গেছেন এসআই আকবর। নির্যাতনের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ইনচার্জ আকবর হোসেনের নেতৃত্বে এ নির্যাতন চালানো হয়।

    রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর লাপাত্তা হয়েছেন তিনি। তাকে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  সোমবার ( ১২ অক্টোবর ) রাত থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির ছিল। তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এলাকা না ছাড়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত রাত থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    এসআই আকবরর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িকে নিজের থানা হিসেবে চালিয়ে নিতেন তিনি। প্রতিদিনই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সালিশ বসাতেন ফাঁড়িতেই। ফাঁড়ির ভেতরে একটি কক্ষ রয়েছে তার। সেই কক্ষকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।

    রাতারাতি ভিলেনে পরিণত হওয়া আকবরে দায়িত্বহীনতার কারণেই তাকে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে ইতোমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে।

    ফাঁড়ি হলেও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভাব থানার মতই। আর ইনচার্জ আকবর চলাফেরা করতেন থানার ওসির মতই। ফাঁড়ির ভেতরে তিনিই ছিলেন এসি আবার তিনিই ওসি। তার হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না।

    সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ আকবর হোসেনের নেতৃত্বে এ নির্যাতন চালানো হয়। ইনচার্জসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সোমবার আকবরসহ ৪ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ সে সময় দায়িত্বে থাকা ৭ পুলিশ সদস্যকে। ইনচার্জ আকবর প্রথমে রায়হানকে ফাঁড়িতে নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পরে সিলেট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি। সেই ফুটেজ দেখানোর পর সবাই মুখ খুলতে শুরু করেন।

    ফুটেজে শনিবার রাত ৩টা ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে দেখা যায়, দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এসে থামে। সামনের অটোরিকশা থেকে তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে রায়হানকে দেখা যায়। তিনি হেঁটে হেঁটেই পুলিশের সঙ্গে ফাঁড়িতে প্রবেশ করেন। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল ৬টা ২২ মিনিটে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আসে বন্দর ফাঁড়ির সামনে। এর দুই মিনিট পর ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে দুই পুলিশের কাঁধে ভর করে রায়হানকে সেই অটোরিকশায় তুলতে দেখা যায়।

    ইনচার্জ আকবরসহ অন্যরা তদন্ত কমিটিকে জানান, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে দু’জন লোক সোবহানীঘাট থেকে কাস্টঘর রোড দিয়ে যাচ্ছিল। পথে সুইপার কলোনির গেটের পাশে তাদের আটক করে ছিনতাইকারীরা। চাকু দিয়ে ট্রাউজারের পকেট কেটে তাদের টাকা-পয়সা নিয়ে পাশের সুইপার সুলাইলালের ঘরে ডুকে যায় তিন ছিনতাইকারী। এরপর ছিনতাইয়ের শিকার লোকজন মহাজনপট্টি দিয়ে বের হয়ে নগরীর বন্দরবাজারের মশরাফিয়া রেস্টুরেন্টে দুই পুলিশকে (কোতোয়ালি থানার মুন্সি ও এক অপারেটর) নাশতা করতে দেখে।

    তারা পুলিশকে ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানায়। পুলিশ ইকো-১-কে মোবাইলে কল দিয়ে এ খবর জানায়। এরপর ইকো-১-এর ওয়্যারলেস অপারেটর কনস্টেবল আবু তাহের এএসআই আশিক এলাহীর টিমকে খবর পাঠায়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া ও হারুনুর রশিদ। তারা গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমের উপস্থিতিতে রায়হানকে আটক করে। তার সঙ্গে থাকা দু’জন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

    পরে রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় এএসআই আশিক এলাহী ছিনতাইয়ের শিকার লোকের নাম-পরিচয় রাখেননি বলে তদন্ত কমিটিকে জানান। ইনচার্জ আকবর চুপ থাকলেও আটককারী সদস্যরা কমিটিকে জানান, ফাঁড়িতে নিয়ে আসার পর এসআই আকবরের নেতৃত্বে রায়হানকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তার নির্দেশেই তৌহিদের ফোনে রায়হান তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা সাত পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আরেক দফা তদন্ত চলছে। এই তদন্তের পর এদের মধ্য থেকে রায়হান হত্যা মামলায় আসামি করা হতে পারে।

    রায়হানকে হত্যার অভিযোগে রবিবার রাত আড়াইটায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে থানার এসআই আবদুল বাতেনকে।

    এর আগে এসএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি-উত্তর) আজবাহার আলী শেখ স্বাক্ষরিত ৬৩৫৭নং স্মারকে বলা হয় রায়হানের স্ত্রীর অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কে বা কারা তার স্বামীকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে পুলিশি হেফাজতে রেখে তার হাত-পায়ে আঘাত করে জখম করে।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved