• রবিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে জাল ফেলে হতাশ জেলেরা

    অনলাইন ডেস্ক | ২৭ অক্টোবর ২০২১ | ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

    নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে জাল ফেলে হতাশ জেলেরা

    ২২ দিন বন্ধ থাকার পর নদীতে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরছে ভোলার জেলেরা। বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুরসহ উজান অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে মাছ শিকার করায় ভোলার নদ-নদীতে ইলিশ নেই বলে দাবি করছেন তারা।

    এছাড়া গত বছরের চেয়ে ১০ দিন আগে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় মা ইলিশ সময়মতো ডিম ছাড়তে পারেননি বলেও দাবি জেলেদের । ইলিশের পরিমাণ কম হওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।

    জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম থাকে। এবছর ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পায়নি জেলেরা। যখন দু-একটি ইলিশ ধরা পড়া শুরু হয়েছিলো ঠিক তখনই সরকার, মা ইলিশ যাতে অবাধে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    গতবছর যেখানে ১৪ অক্টোবর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো, এ বছর তা জারি হয় ৪ অক্টোবর থেকে। তারপরও নিষেধাজ্ঞা মেনে ভোলার জেলেরা ইলিশ শিকার থেকে বিরত ছিলো। জেলেরা ভেবেছিল ২২ দিনের বিরতির পর তাদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে কিন্তু আশানুরূপ ইলিশ পায়নি তারা।

    ক্রেতাদের আশা ছিলো, নিষেধাজ্ঞার পর প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে, দাম কমবে। বরং ইলিশের পরিমাণ কম হওয়ায় এখন ইলিশের দাম আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সময়মতো নিষেধাজ্ঞা জারি না করা এবং উজানের দিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে ইলিশ শিকারের কারণে এখনও ডিমওয়ালা মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। জেলেরা দাবি করছে তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপ আলোচনা না করে নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে।

    ভোলার ইলিশা ঘাটের জেলে মো. ইব্রাহিম বলেন, সরকার ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞার দিয়েছিল সেটা আমরা পালন করেছি। ২২ দিন পর নদীতে গিয়ে আমরা যে মাছ পাইছি, অন্যান্য বছরে নিষেধাজ্ঞার পরে নদীতে গেলে আমরা যে মাছ পাইতাম তার চেয়ে অনেক কম।

    নাছির মাঝি ঘাটের জেলে মো. নকিব বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর নিষেধাজ্ঞা ১০ দিন আগে দেওয়ায় মাছের ডিম ছাড়ার সাথে নিষেধাজ্ঞার কোন মিল নাই। এখনো আমরা ডিমওয়ালা মাছ পাইতেছি। নিষেধাজ্ঞা আরও কিছুদিন পর হইলে মাছ ডিম ছাড়তে পারতো, আমাদের জেলেদের জন্যও ভালো হইতো। এজন্য আমাদের জেলেদের সাথে আলাপ করে নিষেধাজ্ঞা দিলে ভালো হইতো।

    মাছ ব্যবসায়ী মনজুর আলম বলেন, অভিযানের পরে আমরা মনে করেছিলাম মাছ অনেক বাড়বে কিন্তু মাছ এখন অনেক কম, দাম বেশি।

    ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানিয়েছে, সব জেলায় সাধারণত ইলিশ একসময় ডিম ছাড়ে না। এলাকা ভেদে তারতম্য হয়ে থাকে। তবে সারা দেশের জেলে প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় দফতরের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী পূর্ণিমার জোয়ার আসলে জেলেরা বেশি পরিমাণে ইলিশ পাবেন।

    ভোলায় বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩ শত মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মৎস্য বিভাগ।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved