• বৃহস্পতিবার ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে শাহবাগে প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি

    অনলাইন ডেস্ক | ১০ অক্টোবর ২০২০ | ১:১৬ অপরাহ্ণ

    ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে শাহবাগে প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি

    ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে শাহবাগে গণ-অবস্থান কর্মসূচির পঞ্চম দিনে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাম ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখাসহ বেশ কিছু কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ অক্টোবর নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ।

    এছাড়া সমাবেশে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অণীক রায়। বিক্ষোভ ও অবস্থান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১১ অক্টোবর ধর্ষণবিরোধী আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ১২ অক্টোবর সাংস্কৃতিক সমাবেশ, ১৩ অক্টোবর চলচ্চিত্র উৎসব, ১৪ অক্টোবর নারী সমাবেশ, ১৫ অক্টোবর সারা ঢাকায় ধর্ষণবিরোধী সাইকেল র‌্যালি, ১৬ অক্টোবর নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৭ অক্টোবর নোয়াখালীতে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সমাবেশ।

    গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ধর্ষণবিরোধী মিছিল, গান, কবিতা আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ। বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। বিকেল ৩টায় মহাসমাবেশের শুরুতে প্রতিবাদী গণসংগীত পরিবেশন করে উদীচী। এরপর ‘ধর্ষকের আস্তানায়, আগুন জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘লাঠির বাড়ি মারবি, সামলাতে পারবি না’, ‘বুকের ভেতর দারুণ ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’ প্রভৃতি স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

    ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অণীক রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের রওশন আরা রুশো, নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি শ্যামা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাইদুল হক মিশন, ছাত্র ফেডারেশনের মিতু সরকার, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সমীরণ চাকমা, সুনয়ন চাকমা, মানবাধিকারকর্মী ইলিনা দেওয়ান, উত্তরায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ ছাত্র নেতা মাহতাব খান বাঁধন, মিরপুরের রাশিদুল ইসলাম ফাহিম প্রমুখ।

    সংহতি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ড. শহীদুল আলম, রেহনুমা আহমেদ প্রমুখ।

    মহাসমাবেশে বক্তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, পাহাড়ের কল্পনা চাকমা, কুমিল্লার তনু থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার বিচার না হওয়ার কারণে ধর্ষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিচারহীনতার কারণে এবং ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় এখন ধর্ষণকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বক্তব্য পর্ব শেষে শুরু হয় প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন।

    ৯ দফা দাবি : সমাবেশে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ‘ব্যর্থ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে। ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তদন্তকালে ভুক্তভোগীকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভুক্তভোগীর আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধবিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য-প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে। গ্রামীণ সালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved