• বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    ছেলেকে শেষ দেখা হলো না বাবার

    অনলাইন ডেস্ক | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

    ছেলেকে শেষ দেখা হলো না বাবার

    ‘কত করে কইলাম আমার বাবাটারে একটু দেখতে দেন। দেইখা বাড়ি চইলা যামুগা। আমারে ভেতরে যাইতে দিলনারে। বাজানের লগে আমার শেষ দেখা হইলো নারে।’ ছেলে ইমান হোসেন ইমরানের মৃত্যুর খবর শুনে গতকাল সোমবার এভাবেই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের সামনে বিলাপ করছিলেন বাবা আলাউদ্দিন শেখ। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন ২৭ জন মারা গেলেন।

    এদিকে এ ঘটনায় ১৫ শতাংশ দগ্ধ মামুনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৯৪ শতাংশ দগ্ধ নজরুল ইসলাম (৫০), ৭০ শতাংশ দগ্ধ আবদুস সাত্তার (৪০), ৪৭ শতাংশ দগ্ধ আবদুল আজিজ (৪০) ও ২৫ শতাংশ দগ্ধ আমজাদ (৩৭) নিবীড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং ৫০ শতাংশ দগ্ধ মো. ফরিদ (৫৫), ৯৩ শতাংশ দগ্ধ শেখ ফরিদ (২১), ৩০ শতাংশ দগ্ধ মো. কেন্নান (২৪), ২২ শতাংশ দগ্ধ সিফাত (১৮) ও ৮৫ শতাংশ দগ্ধ হান্নান (৫০) পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের প্রায় সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।

    গতকালও দিনভর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৫ তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের সামনে শোনা গেছে স্বজনদের আহাজারি। এক নারী বিলাপ করে কাঁদছিলেন ‘আমার সঙ্গে এমন ক্যান হইলো। আমার দুই মেয়ের কপালই এমন ক্যান হইলো। এক জামাই মইরা গেল। আরেকজনের কি হইবো?’ পরে রওশন আরা নামের ওই নারী কাঁদতে-কাঁদতেই ভোরের কাগজকে জানান, তার বড় মেয়ে মুক্তার স্বামী ইমরান ও ছোট মেয়ে তানজিলার স্বামী আমজাদ নারায়ণগঞ্জের ফকির নিট পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সকালে ইমরান মারা গেছে, আমজাদের অবস্থাও ভালো নয়…।
    এদিকে সদ্য মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়া সিফাতের অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত নয়। ওয়েটিং রুমে ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাবা স্বপন জানান, ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তবে কি হচ্ছে বুঝতে পারছেন না তিনি। ছেলেকে বাঁচিয়ে যেন ফেরত নিতে পারেন এ জন্য সবার দোয়া চান তিনি।

    চতুর্থ তলায় কথা হয় আইসিউতে চিকিৎসাধীন ৭০ শতাংশ দগ্ধ মো. আবদুস সাত্তারের স্ত্রী রুবির সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আমার স্বামী নিট কনসার্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ওই দিন নামাজ পড়তে গিয়েই দগ্ধ হন। তাকে নিজ হতেই আইসিইউতে মলম লাগিয়েছি। তবে আমরা স্বামী এখন চোখে ঝাপসা দেখছেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মো. ফরিদও একই সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই মোবারক।

    অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে একমাত্র মো. মামুনই (৩০) এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তার শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানান, বিস্ফোরণে মামুনের শ্বাসনালি দগ্ধ হয়নি। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে গতকাল বিকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তবে তাকে দুই সপ্তাহ পর আবার ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি।

    ছাড়পত্র নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মামুন বলেন, আমি সুস্থ হয়ে বাসায় যাচ্ছি, খুব ভালো লাগছে। কখনো ভাবতে পারিনি বাসায় ফিরতে পারব। শুনেছি ২৭ জন মারা গেছে। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

    ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ভোরের কাগজকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আসা রোগীদের সর্বাত্মক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সবারই ইনহেলেশন বার্ন হয়েছে। আসলে আগুনে কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস ভেতরে ঢুকেই শ্বাসনালি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। অনেক ঘটনায় মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধনসহ চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। ফলে এ ধরনের রোগীদের সুস্থ করে তোলা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে তাদের চিকিৎসায় আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী গত শনিবার আমাকে এসএমএস করেছেন। গত রবিবার ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের চিকিৎসায় সাহায্য করার দরকার তাই করার নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১২:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved