• বৃহস্পতিবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    গরিব বলে কি বিচার পাব না? সঠিক বিচার না পেলে এই জীবন রাখব না

    অনলাইন ডেস্ক | ২২ নভেম্বর ২০২০ | ৭:৩১ অপরাহ্ণ

    গরিব বলে কি বিচার পাব না? সঠিক বিচার না পেলে এই জীবন রাখব না

    গত বছর ২৯ জুন শরীয়তপুরের জাজিরার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারীর (৩২) বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তরুণী মাসুদ ও তাঁর সহযোগী শরীফ সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। আজ রোববার ওই ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম চলছিল শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। মামলার দুজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বয়ান পাল্টাতে দেখে আদালতের বারান্দায় কান্নায় লুটিয়ে পড়েন ওই তরুণী।

    জাজিরা থানা, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই তরুণী জাজিরার একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি উপজেলা সদরের একটি রোগনির্ণয়কেন্দ্রে কাজ করতেন তিনি। গত বছরের ২৯ জুন সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন অভিযোগযুক্ত মাসুদ।

    ঘটনার পর তরুণীকে উদ্ধার করেছিলেন মানছুরা বেগম ও আলেকজান বেগম নামের দুই নারী। তাঁরা গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১১ জুলাই তাঁরা শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন। আজ তাঁরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতকে বলেন, ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

    দুই সাক্ষীর এমন বয়ান শুনে কাঁদতে শুরু করেন তরুণীটি। কাঁদতে কাঁদতে আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। মেয়ের কান্না দেখে মা–বাবাও কাঁদতে থাকেন।

    কাঁদতে কাঁদতে তরুণীটি বলেন, ‘আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। পড়ালেখা, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা; সবই বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও বিচার চাইতে আদালতে আসছি। প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। নানা গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। আসামিরা প্রভাবশালী। তাঁরা হুমকি দিচ্ছেন। গরিব বলে কি বিচার পাব না? সঠিক বিচার না পেলে এই জীবন রাখব না। গঞ্জনার জীবন রেখে কী হবে!’

    ওই তরুণীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েটি এখন ঘর থেকে বের হতে পারে না। তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এসব জানিয়ে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি। তাঁরা প্রভাব বিস্তার করে সাক্ষীদের প্রভাবিত করছেন। গরিব মানুষ আমরা, কেউ আমাদের পাশে নেই।’

    মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মির্জা হযরত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। আদালতের বাইরে আসামিরা হয়তো সাক্ষীদের প্রভাবিত করেছেন। এ কারণে তাঁরা আগের বয়ান বদলে থাকতে পারেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিনে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পাবেন।’

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৭:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2022 shikkhasangbad24.com all right reserved