• মঙ্গলবার ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    একনজরে পদ্মা সেতু

    অনলাইন ডেস্ক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১:৫৭ অপরাহ্ণ

    একনজরে পদ্মা সেতু

    সেতুর সমীক্ষা ও নকশার সময়কাল, ব্যয়, নির্মাণের সময়সীমা ইত্যাদির দিকে একটু ফিরে তাকানো যাক। ১৯৯৮ সালে প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কাজের মধ্য দিয়ে সেতু প্রকল্পের কর্মকাণ্ডের শুরু। ২০০৩-০৫ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়েছে। রেলসংযোগ ছাড়া তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১২৫ দশমিক ৭ কোটি ডলার। নির্মাণকাল ধরা হয়েছিল ৪ দশমিক ৫ বছর। ২০০৭ সালে রেলসংযোগ ছাড়া প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। ২০০৯-১১ সালে বিস্তারিত নকশা সম্পন্ন হয়। বিস্তারিত নকশার পর রেলসংযোগসহ প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে সেতুর ভৌত নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০১৮ সাল। এই প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে নদী প্রশিক্ষণ কাজের জন্য ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর পরামর্শ কাজের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৬৭৮ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এই অনুপাতে হিসাব করলে সর্বশেষ মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের, অর্থাৎ ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার মধ্যে নদী প্রশিক্ষণকাজ উপাংশের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পুনর্বিন্যস্ত ডিপিপি অনুযায়ী ২০১৯ সালে পুনঃ প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা; নির্মাণকাজ সমাপ্তির প্রাক্কলিত সময়সীমা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস। পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত সময়সীমা হয় ২০২১ সালের জুন মাস। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাসের আগে সেতুর কাজ শেষ হবে না, তবে ব্যয়ও বাড়বে না (ডেইলি স্টার, ২৭ আগস্ট ২০২০)। ২২ বছরের অনেক ঘটনা ও পরিবর্তন সেতু প্রকল্পের চোখের সামনেই তাহলে ঘটেছে।

    ফিরে আসি ভাঙনের কথায়। নদীটি এখনো কেন এমন ভাঙন ঘটিয়ে চলেছে, সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সেতু কর্তৃপক্ষকে গভীরভাবে তার উত্তর খুঁজতে হবে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের অনুধাবন এই যে, সেতু প্রকল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় সবার সব মনোযোগ পদ্মা সেতুর দিকে, পদ্মা নদীর দিকে নয়।

    ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসা ভাঙনের ব্যাপকতা ও তীব্রতার দিকে তাকানো যাক। শুধু নির্মাণ প্রাঙ্গণের বিপুল ভূমিই নয়, পদ্মায় নিমজ্জিত হয়েছে নির্মাণ কোম্পানির নির্মিত বা সংগৃহীত ন্যূনপক্ষে ১৯২টি রেলওয়ে স্ট্রিনজার ও ২২০টি সড়ক ডেক। ঠিকাদারের প্রাথমিক হিসাবমতে, ক্ষতির পরিমাণ ৯০ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্ম কুশলীরা দিনরাত সেখানে উপস্থিত। আমাদের এই অনুমানও কি তাহলে যথার্থ নয় যে সবার মতো নির্মাণ ঠিকাদারদেরও সব মনোযোগ পদ্মা সেতুর দিকে, নদীর দিকে নয়?

    অতীতে বহুবার, প্রায় প্রতিবছর, ভরা বর্ষায় নদী পার হয়ে ফেরিপথের শুরুতে ফেরি আটকে পড়েছে, ফেরিপথের মুখ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, দিনের পর দিন ফেরি চলাচল পুরো বন্ধ থেকেছে, ফেরিঘাটে আবার চলাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকা শত শত যানবাহনের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বছরও এ সমস্যা প্রকট। ২৯ আগস্ট রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর ৩ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল আট দিন। শুকনো মৌসুমে পানি বেশ নিচে নেমে যায়। কিন্তু সেতু এলাকায় শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে পানিপ্রবাহের ঘাটতি নেই। তাহলে এই সময়ে কেন ফেরি আটকে পড়ছে? এ নিয়ে কি সেতুসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনে কোনো ভাবনার উদ্রেক হয়েছে? নাকি এই সব শুধু ফেরি কর্তৃপক্ষের ব্যাপার?

    এবার আসি নদী প্রশিক্ষণকাজের কথায়। সেতু নির্মাণের প্রধান উপাংশগুলোর মধ্যে নদী প্রশিক্ষণের কাজ একটি বড় স্থান নিয়ে আছে। ব্যয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ। এ হলো নদীতীর বেশ গভীর থেকে বাঁধাই করার কাজ (bank armouring)। মাওয়া প্রান্তে এ কাজের পরিমাণ ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং মঙ্গল মাঝির ঘাট প্রান্তে ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার। মোট ১৪ কিলোমিটার। আমাদের প্রশ্ন সরল, নদীর কোন পাড় ভাঙনপ্রবণ? এ প্রশ্নের উত্তর সেতু কর্তৃপক্ষকে গভীরভাবে খুঁজতে হবে। এযাবৎ ভাঙনের সব তাণ্ডবই বাঁ দিকের তীরে দেখলাম। তাহলে ডান তীরে ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার কেন? ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার কাজের পুরোটাই কি প্রয়োজনীয়? কার ভয়ে, কী রক্ষার্থে? ওই ১৪ কিলোমিটার কাজকে নদী প্রশিক্ষণের কাজ বলা খুব সমীচীন মনে হয় না, যদিও সেতু প্রকল্প নাম দিয়েছেন নদী প্রশিক্ষণকাজ (River Training Works)। বরং একে নদীতীর রক্ষাকাজ (River Bank Protection Works) বলাই অধিক সংগত।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১:৫৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

    shikkhasangbad24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১ 
    advertisement

    সম্পাদক ও প্রকাশক : জাকির হোসেন রিয়াজ

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাড়ি# ১, রোড# ৫, সেক্টর# ৬, উত্তরা, ঢাকা

    ©- 2021 shikkhasangbad24.com all right reserved